সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন
ঢাকা: দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোকে শক্তিশালী করতে একীভূত হতে যাওয়া পাঁচটি ব্যাংকে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপের ফলে এই ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার ওপর সরাসরি তদারকি বাড়বে।
কোন কোন ব্যাংকে প্রশাসক বসছে?
প্রথম ধাপে দুর্বল আর্থিক ভিত্তির কারণে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ব্যাংকে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। ব্যাংকগুলো হলো:
১. পদ্মা ব্যাংক
২. বেসিক ব্যাংক
৩. ন্যাশনাল ব্যাংক
৪. আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক
৫. কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন
প্রশাসক বসানোর কারণ ও উদ্দেশ্য:
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ব্যাংকগুলোর পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্বলতা রয়েছে। একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়াকে নির্বিঘ্ন করতে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসক নিয়োগ করা হচ্ছে। প্রশাসকরা মূলত ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম, ঋণ বিতরণ, খেলাপি ঋণ আদায় এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় কাজ করবেন। তাদের প্রধান লক্ষ্য থাকবে ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত্তি মজবুত করা এবং একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা।
কীভাবে কাজ করবেন প্রশাসক?
প্রশাসক নিয়োগের পর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বে। প্রশাসক সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জবাবদিহি করবেন এবং ব্যাংকটির সকল গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তার মাধ্যমেই নেওয়া হবে। এর ফলে ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ অনিয়ম ও দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতামত:
অর্থনীতিবিদরা বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এটি দেশের ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে তারা সতর্ক করে দিয়েছেন, প্রশাসক নিয়োগের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তার দীর্ঘমেয়াদী সমাধান করা জরুরি।
এই সিদ্ধান্তটি দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে এবং ভবিষ্যতে আরও দুর্বল ব্যাংককে একীভূত করার পথ সুগম করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।